বোয়ালখালীর কাজল চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে অভিযোগের পাহাড়।

বোয়ালখালীর কাজল চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে অভিযোগের পাহাড়।

 নিউজ ডেক্স
আপডেট: ২০২১-১১-০৭ , ০৯:৩২ পিএম

বোয়ালখালীর কাজল চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে অভিযোগের পাহাড়।

নিজস্ব প্রতিবেদক:

স্থানীয় সরকার আইনের শপথ ভঙ্গ করেছেন চট্টগ্রামের বোয়ালখালীর আমুচিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কাজল দে। নিজের নামে ওয়ারিশ সনদ লিখেছেন তিনি নিজের হাতেই। স্বাক্ষরও করেছেন তিনি নিজেই। তার বাবা-মায়ের চার ছেলে সন্তান থাকলেও শুধুমাত্র নিজের নামই তিনি রেখেছেন ওই ওয়ারিশ সনদে। বাকি তিন ভাইকে সম্পত্তি থেকে বঞ্চিত করতে ক্ষমতার এমন অপব্যবহার করেছেন চট্টগ্রামের বোয়ালখালীর আমুচিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কাজল দে। এই ওয়ারিশ সনদ দিয়ে তিনি নিজের নামে ভাগিয়ে নিয়েছেন সম্পদ। ভাইদের না দিয়ে খতিয়ান এবং নামজারীও করে নিয়েছেন তিনি এই ওয়ারিশ সনদ দিয়ে। শুধু এই অপকর্মই নয়, সরকারি নিয়মে অর্পিত সম্পত্তি প্রত্যাবর্তনের জন্য প্রয়োজনীয় ওয়ারিশ সনদ বিক্রি করে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়া, মদের গাড়ি থেকে চাঁদাবাজি, হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের জমি দখল, মাদক ব্যবসা, সড়ক সংস্কার না করেই বিল হাতিয়ে নেওয়া, কো-অপারেটিভ সোসাইটির নামে অসহায় গ্রামবাসী কোটি কোটি টাকা আত্মসাতসহ গত ১০ বছরের জনপ্রতিনিধি থাকাকালে তার ঝুড়িতে যুক্ত হয়েছে এমন অসংখ্য অপকর্ম। হিন্দুদের সম্পদ নানা কায়দায় দখল করছেন তিনি একের পর এক। অন্যের জমি নিজের নামে নামজারী করিয়ে নেওয়ার অভিযোগও আছে চেয়ারম্যান কাজল দে'র বিরুদ্ধে। ভূমিদস্যুতা, মাদক কারবারি হিসেবে পরিচিত কাজল চেয়ারম্যান আমুচিয়া ইউনিয়নের বাসিন্দাদের কাছে এখন এক আতংকের নাম। অতীতে কোনো রাজনীতি না করলেও দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের এক শীর্ষ নেতার আশ্রয়-প্রশ্রয়ে কাজল দে' হয়ে উঠেছেন অপকর্মের হোতা। চেয়ারম্যান হওয়ার সুবাধে ওই শীর্ষ নেতার আশ্রয়ে তিনি এখন হয়েছেন ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি। অথচ গত ১০ কোনো রাজনৈতিক কর্মসূচি বা দলকে সংঘটিত করার কোনো আয়োজন তাকে করতে দেখা যায়নি৷ নিম্নে তার অপকর্মের ফিরিস্তি তুলে ধরা হলো- ১. মদের হাটে চাঁদাবাজিই কাজল দে'র প্রথম ব্যবসাঃ বোয়ালখালীর করলডেঙ্গা পাহাড়ি অঞ্চলের অবৈধ মদ উৎপাদন করে থাকে একশ্রেণীর অসাধু মানুষ। ওই মদগুলো আমুচিয়া ইউনিয়নের কানুনগোপাড়া এলাকার উপর দিয়ে প্রতিদিন পরিবহন করা হয়৷ এসব মদের কারবারীরা আমুচিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কাজল দে'কে টাকা দিয়েই এই মদ ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে। এলাকায় উঠতি তরুণ-যুবকদের অনেকেই এখন তাই মাদকাসক্ত হয়ে পড়েছে। যার প্রভাব পড়েছে আমুচিয়া ইউনিয়নের ঘরে ঘরে। প্রতিটি মদবাহী গাড়ি থেকে ১ থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা নেন তিনি। ২. হিন্দু সম্প্রাদায়ের ওয়ারিশ সনদ বিক্রি করে নেন লাখ লাখ টাকাঃ আমুচিয়া ইউনিয়ন পরিষদের উল্লেখযোগ্য এলাকা সনাতনী হিন্দু ধর্মাবলম্বী অধ্যুসিত এলাকা। মৃত হিন্দু ধর্মাবলম্বী নাগরিকদের সম্পত্তি ভাগবন্টনে ওয়ারিশ সনদের গুরুত্ব বেশি। বিশেষ করে সরকারি নিয়মে হিন্দু সম্প্রাদায়ের মানুষের অর্পিত সম্পত্তি প্রত্যাবর্তনের (মালিকামুলে সম্পত্তি ফেরত) বিষয়ে ওয়ারিশ সনদ প্রদানের বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই সুযোগে চেয়ারম্যান কাজল দে ওয়ারিশ সনদ বিক্রির হাট বসিয়েছে। 'অবস্থা বুঝে' একেকটি ওয়ারিশ সনদ বিক্রি করেছেন তিনি এক লাখ থেকে পাঁচ লাখ টাকায়। এমনকি ১০ লাখ টাকায়ও বিক্রি হয়েছে এই সনদ। ৩. কো-অপারেটিভ সোসাইটির নামে স্থানীয় জনগণের তিন কোটি টাকা লুটপাটঃ ধোরলা কানুনগোপাড়া আরবান কো-অপারেটিভ সোসাইটি নামে একটি সংস্থা রয়েছে। এই সংস্থাটির নিয়ন্ত্রণ নিয়েছেন কাজল দে। তার ভাই মিলন দে'র সন্তান সঞ্জয় দে এই আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সভাপতি। চেয়ারম্যান কাজল দে এই সংস্থার কোষাধ্যক্ষ। চট্টগ্রাম বন্দরের ম্যাকানিকাল (যান্ত্রিক) ডিপার্টমেন্টের জুনিয়র স্টোর ম্যান (জোন-ডি) পদে কর্মরত থেকে বন্দর কর্তৃপক্ষের বিনা অনুমতিতে সঞ্জয় দে চাকরি করছেন এই কো-অপারেটিভ কোম্পানিতে। শুধু তাই নয়, বন্দরে চাকরি করলে চাচা কাজল দে'র অপকর্মের সহযোগী হিসেবে তার নাম আমুচিয়ায় প্রতিষ্ঠিত। সঞ্জয় সরকারি চাকরিজীবী হয়েও নিয়ম না মেনে ভাগিয়ে নিয়েছেন আমুচিয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদকের পদ। যে কমিটির সভাপতি কাজল দে' নিজেই। সম্প্রতি এলাকার মানুষের অভিযোগ, এই কো-অপারেটিভ সোসাইটিতে গ্রামের মানুষ বছরের পর বছর ধরে বিভিন্ন স্কিমে টাকা জমা রাখে। লাভতো দূরের কথা মেয়াদ শেষে আসল টাকার মুখও দেখছেন না এই প্রতিষ্ঠানে বিনিয়োগকারী। ২০০৩, ২০০৪, ২০০৫ সাল থেকে টাকা জমা রাখা গ্রাহকদের টাকাও এখনো জমা দেয়নি কোষাধ্যক্ষ কাজল চেয়ারম্যান ও সভাপতি সঞ্জয় দে গং। এই প্রতিষ্ঠানের নামে টাকা জমা নিয়ে এসব টাকা চেয়ারম্যান কাজল দে ও তার ভাতিজা সঞ্জয় দে আত্মসাৎ করেছে বলেও দাবি করেছে স্থানীয়রা। এক বছর মেয়াদী আমানতের হিসেব খুলে কপিল উদ্দিন (কো-অপারেটিভের হিসেব নম্বর- ৩৭/২০১৪/১৫) নামে এক ভুক্তভোগী বছরের পর বছর ধরে আসল টাকার দেখা পাচ্ছে না। শুধু কপিল উদ্দিন নয়, তদন্ত করলে কপিল উদ্দিনের অসংখ্য ভুক্তভোগী বেরিয়ে আসবে। ৪. পিতা-মাতার একক সন্তান দাবিদার কাজল দে'রা চার ভাই, আগের ওয়ারিশ সনদে আছে তার প্রমাণঃ কাজল দে'র বাবার নাম- মৃত মতি লাল দে, মায়ের নাম- স্বর্ণলতা দে। তাদের সন্তান চার জন। ০৫/০৭/২০০৭ তারিখ তৎকালীন আমুচিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবু বক্কর সিদ্দীক তাদের চার ভাইয়ের নামে ওয়ারিশ সনদ প্রদান করে৷ সেই ওয়ারিশ সনদে দেখা গেছে, ১. লাল মোহন দে ২. অনীল কান্তি দে ৩. মিলন কান্তি দে এবং ৪. কাজল কুমার দে'র (চেয়ারম্যান) নামে ওয়ারিশ সনদ প্রদান করেন । কিন্তু ২৩/০৯/২০১৪ তারিখ কাজল চেয়ারম্যান নিজের তিন ভাই লাল মোহন, অনীল, মিলনকে বাদ দিয়ে একক সন্তান হিসেবে নিজের নামে নিজেই ওয়ারিশ সনদ সৃজন করেন। একক সন্তান দাবি করতে এই সনদ দিয়ে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) বরাবর স্বর্ণলতার পৈত্রিক সূত্রের মালিক হওয়ার জন্য তিনি আবেদন করেন। সে আবেদনের প্রেক্ষিতে বেশকিছু জমির তিনি খতিয়ান সৃজন করেন। খতিয়ান নম্বর- ২৩৫২। কাজলের ভাইয়েরা তার এই ক্ষমতার অপব্যবহারের বিরুদ্ধে ভয়ে মুখ খোলার সাহস পান না। ৫. কোনো ওয়ারিশ সনদে নেই স্বারক নম্বর, পরিষদেও হয় না সংরক্ষণঃ কাজল দে' আমুচিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান থাকাকালীন কোনো ওয়ারিশ সনদে স্মারক