সামাজিক ও নৈতিক অবক্ষয়ে যুবসমাজ যতটা নষ্ট হয়, তারচেয়েও বেশি নষ্ট হয় ক্রমবর্ধমান বেকারত্বে!

সামাজিক ও নৈতিক অবক্ষয়ে যুবসমাজ যতটা নষ্ট হয়, তারচেয়েও বেশি নষ্ট হয় ক্রমবর্ধমান বেকারত্বে!

 রাশেদুল ইসলাম রাসেল
আপডেট: ২০২১-১০-২৬ , ০৩:৫৬ পিএম

সামাজিক ও নৈতিক অবক্ষয়ে যুবসমাজ যতটা নষ্ট হয়, তারচেয়েও বেশি নষ্ট হয় ক্রমবর্ধমান বেকারত্বে!

রাশেদুল ইসলাম রাসেল চট্টগ্রাম প্রতিনিধি

 লেখক: হোসাইন মোহাম্মদ ৭১'এর পরবর্তী আজকের বাংলাদেশ, নিঃসন্দেহে বাঙালি জাতির এগিয়ে যাওয়ার প্রতিচ্ছবি, এই যেন যোজন যোজন তারতম্যে পরিপূর্ণ ১৯৭১ Vs ২০২১! বাঙ্গালী জাতি বীরের জাতি, ছুটছে অবিরাম, শত ষড়যন্ত্র যাদের দমিয়ে রাখতে পারেনি, বাঙ্গালী সময়ের সাথে সাথে ঠিকই নিজের জাত ছিনিয়েছে বিশ্ব দরবারে। ৫২-তে যেই স্বপ্ন বুনেছিলো সালাম, রফিক, জব্বার! সেই স্বপ্নের পরিপূর্ণতা অর্জনে জাতি যতবারই হোটচ খেয়েছে, ততবারই ঘুরে দাড়িয়েছে, হাল ধরেছে, কখনো হাসু আপা, কখনো পিতা মুজিবুর। স্বাধীনতা পরবর্তী বাংলাদেশের উন্নয়নের পরিসংখ্যানই জানান দিচ্ছে, দেশ এগিয়ে যাচ্ছে, আর আমরাও ক্রমেই এক নিষ্ঠুর সময়ের দিকে এগিয়ে যাচ্ছি! যেখানে মানবিকতা, নৈতিকতা, মূল্যবোধ, দয়া, মমতা, চক্ষুলজ্জ্বা এসব শব্দের কোনো অস্তিত্বই নেই! প্রতিস্থাপনের এই খেলায় তার জায়গা দখল করে নিয়েছে অনৈতিকতা, অমানবিকতা, নিষ্ঠুরতা, স্বার্থপরতা, জিঘাংসা, হিংসা, বিদ্বেষ, ধর্ষন, কিংবা টাকার বিনিময়ে মানুষ হত্যাসহ জাতীয় সব নেতিবাচক শব্দের কালো হাত। আজকাল খবরের কাগজ খুললেই এমন সব খবরের মুখোমুখি হতে হয়, যা দেখলে যে কোনো মানুষের হৃদয়ে রক্তক্ষরণ হয়। গত ক'দিন পূর্বে বাঁশখালী পৌরসভাস্থ জলদি মনচুরিয়া বাজারে প্রকাশ্য দিবালোকেও সন্ত্রাসী হামলায় নিহত দুই ছোট ভাইয়ের ক্ষতবিক্ষত দেহ গুলো দেখে বাঁশখালীর কমবেশি প্রত্যেকটা মানুষের হৃদয়ে রক্তক্ষরণ হয়েছে। মানুষ স্বার্থের প্রয়োজনে কতটা হিংস্র হতে পারে, তা এই হত্যাকান্ডের পরতে পরতে লেখা হয়ে থাকবে। তলাবিহীন ঝুড়িতে উপনীত হওয়া বাংলাদেশের উন্নয়নের প্রসংশা যেখানে জাত শত্রু পাকিস্তানীরাও করে, সেখানে সামাজিক ও নৈতিক অবক্ষয়ের কারণে দেশের দুই-তৃতীয়াংশ মানুষ প্রতিনিয়ত হতাশায় ভোগে। অতীত যেমনটাই হোক, বর্তমান সময়ের সামাজিক অপরাধ সমুহের মাত্রা এতোটাই উর্দ্ধমুখী যে, এখনই তার লাগাম টেনে ধরা না'গেলে আগামী ১০-১২ বছরে সামাজিক অপরাধ এতোটাই ভয়াবহ যে, মানুষ স্বাচ্ছন্দ্যে সামাজিক অপরাধে লিপ্ত হবে, আর আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার মাঝে জম্মের স্বার্থকতা অনুভব করবে। সময়ের বিপরীতে দ্বিগুণ হবে অর্থের প্রতি মানুষের লোভলালসা, অসম প্রতিযোগিতা। বাড়বে বিষণ্ণতা' বৃদ্ধি পাবে মাদকাসক্তির প্রবনতা, সৃষ্টি হবে সাম্প্রদায়িক মনোভাব আর দাঙ্গা হাঙ্গামার পায়তারা ইত্যাদি। আমি মনে করি সামাজিক অপরাধের পেছনে শিক্ষার অভাব ততটা দায়ী নয়, যতটা বিষণ্ণতা দায়ী। ৫০বছর পূর্বে বাংলাদেশে শিক্ষার হার ২৫% চেয়ে বেশি নাহলেও মানবতা, চক্ষুলজ্জা, ন্যায়পরায়রনতা, মনুষ্যত্ব, সম্প্রতি, দেশপ্রেম আমাদের চেয়ে শতগুণ বেশি ছিলো। একদা দেশের মোট জনসংখ্যার একটি অংশ দরিদ্র সীমার নিচে বসবাস করতো, আর এখন জনসংখ্যার একটি অংশ দেশ পেরিয়ে বিদেশ গিয়ে অর্থ দ্বারা ফুর্তি করে। কাজেই শিক্ষা কিংবা অর্থের অভাবে যুবসমাজ অতটা নষ্ট হয় না, যতটা অলস সময়ের কারুকাজ দ্বারা আক্রান্ত হয়। যেমনটি গত ৩/৪ দিন পূর্বে বাঁশখালী পৌর সদরে এমন কয়েকটি জঘন্য অপরাধ সংঘটিত হয়েছে, যা বরাবরই কল্পনাতীত। বাঁশখালী নবনির্মিত আদালত ভবন, এজলাস, স্টোর রুম, ভূমি অফিস, ম্যাজেষ্ট্রেট এর আবাসিক কোয়ার্টারসহ একরাতেই বাঁশখালীর সমস্ত সরকারি অফিসের তালা ভেঙে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সামগ্রী আত্মসাৎ এর ঘটনায় জড়িতরা কখনো শিক্ষা কিংবা অর্থের অভাব দ্বারা আক্রান্ত ছিলো না, বরং এরা ছিলো অলস সময়ের কারুকাজ দ্বারা আক্রান্ত মস্তিষ্ক বিকৃত কিছু অমানুষ। যারা কাউকে হেয় করার জন্য/ কারো ইমেজ নষ্ট করার জন্য সম্পূর্ণ পূর্বপরিকল্পিত পন্থায় ভাড়ায় চালিত হয়েছে।  সপ্তাহখানেক পূর্বে বাঁশখালী থানার গেইট বিপরীত পাশ্বে অর্থাৎ #মধুবন সংলগ্ন ভবনে স্ব-পরিবারে বসবাসরত এসআই মংগ এর বাসা ডাকাতি বলুন, কিংবা থানার ভিতর থেকে এসআই সুমন এর মোটরসাইকেল চুরি, কিংবা থানার দক্ষিণ পাশ্বে বেশ কিছু সম্ভ্রান্ত হিন্দু পরিবারের ঘরের দরজা ভেঙে ডাকাতি বলুন, সাম্প্রতিক সময়ে সংঘটিত প্রত্যেকটা ঘটনাই উদ্দেশ্যপ্রণীত এবং পূর্বপরিকল্পিত। তাছাড়া অনুমান যদি মিথ্যে না হয়, তাহলে তারও কিছু সময় পূর্বে সংঘটিত বাঁশখালীর জলদি, চাম্বল,নাপোড়ায় সাম্প্রদায়িক সহিংসতাও সম্পূর্ণ পূর্ব পরিকল্পিত এবং উদ্দেশ্যপ্রণীত, যার সঠিক এবং নিখুঁত তদন্ত হলে নিসন্দেহে ফেঁসে যাবে অসংখ্য মহাপুরুষ আর নাটের গুরুদ্বয়। হঠাৎ করে বৃদ্ধি পাওয়া সামাজিক অপরাধ ও তারুণ্যের অবক্ষয়রোধে হয়তো শতভাগ কার্যকরি প্রতিষেধক নেই । তবে সামাজিক ও নৈতিকতা অবক্ষয়ের হাত থেকে বাঁচতে হলে সর্বাগ্রে প্রয়োজন সামাজিক সচেতনতা সৃষ্টি, ধর্মীয় অনুশাসনের অনুশীলন, পরমত সহিষ্ণুতা, পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ জাগ্রত করাসহ সর্বক্ষেত্রে অশ্লীলতাকে বর্জন এর পাশাপাশি মরণব্যাধি অবক্ষয় থেকে জাতিকে বাঁচাতে হলে, এখনই বেকারত্বের লাগাম টানতে হবে, অলস মস্তিষ্ক যদি সয়তানের কারখানা হয়, তাহলেই অবশ্যই অবশ্যই বেকারত্বের তার সহজ শিকার। বিঃদ্রঃ দেশে শিক্ষিত বেকারের সংখ্যা বৃদ্ধি না করে, অশিক্ষিত জনগনকে দক্ষ সম্পদে পরিনত করুন, শিক্ষা জাতির মেরুদণ্ড হতে পারে, তবে বেকারত্ব সুশিক্ষিত জাতির জন্যও অভিশাপ বটে ।